দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত: প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে জাপান সরকার এবং জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নেয়া হবে।
রবিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে যে ধ্বংসযজ্ঞ হবে তা কল্পনাতীত এবং তা কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। তাই ভূমিকম্প সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই।’
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে পুরাতন ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের দেশের প্রকৌশলী ও স্থপতিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে, যেন তারা ভূমিকম্প সহনীয় ভবন, স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে দুর্যোগ ঝুঁকি তথা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তাই এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস পূর্ব প্রস্তুতি, টেকসই উন্নয়নে আনবে গতি’ অত্যন্ত বাস্তবধর্মী ও যথার্থ হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সরকারি কর্মসূচি হিসেবে অনুমোদন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভূমিকম্প ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্যোগকালীন জানমালের ক্ষতি কমাতে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে সহযোগিতা করতে পারে।’
ঢাকা ভূমিকম্প ও জরুরি প্রস্তুতিমূলক সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্প (ডিপার) ইতিমধ্যে অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডে একযোগে কাজ চলছে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল।
সচিব বলেন, ‘ওয়ার্ডগুলোতে দুর্যোগে সাড়া প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পটি ক্রমশই সম্প্রসারিত করা হবে। আমি আশা করি, সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতেও যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা ও এর ঝুঁকিহ্রাস করতে আমরা সক্ষম হবো। দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা এবং মাঠ পর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় জেলাসমূহে ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক গঠন করার পাশাপাশি ৬২ হাজার প্রশিক্ষিত নগর স্বেচ্ছাসেবক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
গোলটেবিল বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তররে মহাপরিচালক মো. মোহসীন বলেন, ‘দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা ও দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা জানতে মোবাইলে ১০৯০ নম্বরে (টোল ফ্রি) আইভি আর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়-সিডর, আইলা, ভূমিধস, বজ্রপাত, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি দুর্যোগ আমরা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
এছাড়া ডিপার সিটি করপোরেশনের প্রকল্প এলাকার ৩৬টি স্কুল ৬টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জরুরি প্রস্তুত সেবা উন্নতি করা হয়েছে। যার প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার ৩৪০ জন। আর পরোক্ষভাবে এই সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।’
গোলটেবিলে আলোচক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
