ফেনীতে ভবনে বিস্ফোরণ, মা ও দুই মেয়ে দগ্ধ
ফেনীর মহিপালে একটি ছয়তলা ভবনে বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছে। শুক্রবার রাতে ভবনটির পঞ্চম তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে দগ্ধ মা ও দুই মেয়েকে প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মা ও এক মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অপরজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন- দুবাইপ্রবাসী মাহফুজ ইসলামের স্ত্রী মেহেরুন নেছা লিপি (৪০), দুই মেয়ে ফারাহ ইসলাম (১৮) ও হাফসা ইসলাম (১৪)। এবার এইচএসসি পাশ করেছে ফারাহ। আর দশম শ্রেণির ছাত্রী হাফসা। তাদের গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ের করেরহাট।
শনিবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ মোদাসের কায়সারের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত টিম দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বোমা বিস্ফোরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরক দলের প্রাথমিক ধারণা-গ্যাসের লিকেজ থেকে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, পিবিআই ও সিআইডিও কাজ করছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, বিস্ফোরণে ভবনটির বেশ ক্ষতি হয়েছে। বাড়িটি বর্তমানে পুলিশি পাহারায় আছে। ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাকের হোসেন জানান, বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। তাদের ধারণা গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হোসেন ভূঁঞা বলেন, দগ্ধ দুজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের শহিদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের হলি ক্রিসেন্ট স্কুল-সংলগ্ন শফিক ম্যানসনের পঞ্চম তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি রুমের দরজা-জানালার কাচ, দেয়াল ও বারান্দার গ্রিল উড়ে গেছে। ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সুলতানা নার্গিস বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। দরজা খুলে দেখি পাশের ফ্ল্যাটে আগুন জ্বলছে। ফ্ল্যাটটির প্রতিটি রুমের দরজা, বারান্দার গ্রিল ও দেয়াল ভেঙে গেছে। আমাদের ফ্ল্যাটেরও কয়েকটি দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে গেছে।

