leadnewsঅপরাধডেমরা

নাজাত মেডিকেল কমপ্লেক্স এন্ড  ডায়াগনস্টিক সেন্টার ডেমরায় সাংবাদিকদের ওপর ভূয়া চিকিৎসকের হুকুমে সন্ত্রাসী হামলা:আহত ৪

ডেমরা নিউজ: ডেমরায় অভিযোগের ভিত্তিতে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওখানকার কথিত ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের সময় ওই চিকিৎসকের হুকুমে ৪ সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বেসরকারি ইলেকট্রনিক মিডিয়া ‘বাংলা টিভি’র ক্যামেরাম্যান মো.সারোয়ার হোসেন জীবন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার রিপোর্টার হৃদয় ইসলাম চুন্নু, আল—আমিন, ও সোহেল আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হৃদয় ইসলাম চুন্নুকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এদিকে এ বিষয়ে ডেমরা থানায় বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১০ টার দিকে অভিযোগ জানাতে গেলে থানায় সাংবাদিকদের পক্ষে কোন অভিযোগ গ্রহন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধার আগে পূর্ব বক্সনগর দারুন্নাজাত মাদ্রাসা সংলগ্ন নাজাত মেডিকেল কমপ্লেক্স এন্ড  ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়,পুর্ব বক্সনগরে দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার সামনে নাজাত মেডিকেল কমপ্লেক্স এন্ড  ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি যার বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন দীর্ঘদিন যাবত। ডাক্তার সেজে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত রোগীদের ব্যাবস্থাপত্র দিতেন তিনি। ডাক্তার না হয়েও জনগনের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন কামরুজ্জামান। তিনি বর্তমানে বিএমডিসির একটি ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করছেন যার নম্বর—১৪৪১৭। অনুসন্ধানে দেখা গেছে এস এম আফতাব—ই আলম নামে হচ্ছে ওই রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। আর এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই জানা গেছে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে মো. কামরুজামান এমবিবিএস পাস না করে দীর্ঘদিন যাবৎ সহজ সরল মানুষদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

আরও জানা যায়, ওই দিন সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ডা. কামরুজ্জামান ও তার পালিত সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় সাংবাদিকদের বহনকারী একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করে তারা। এ ঘটনায় হৃদয় ইসলামের পকেটে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। এদিকে এ ঘটনার আহত সাংবাদিকরা ডেমরা থানায় ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উল্টো দুই সাংবাদিককে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় থানায়। পরবর্তীতে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১৫—২০ জন সাংবাদিক থানায় গিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।এদিকে ক্যামেরাসহ দুই সাংবাদিককে ডেমরা থানার এসআই সায়মুম ৫ ঘন্টা আটকে রেখে ভুয়া ডাক্তারের তথ্য সংগ্রহ করা ভিডিওসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ডিলেট করে দেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান বলেন, ডা. কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদা দাবির অভিযোগ দায়ের করেন ডেমরা থানায়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছিল। আর যখন অন্যান্য সাংবাদিকরা থানায় এসেছে তখন কথা কাটকাটির এক পর্যায়ে আমি বলেছি আপনারা যদি নির্যাতিত হন তাহলে তার অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযোগ্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।