ডেমরায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা
ডেমরা নিউজ:১৫ দিন আগে জন্ম নেয়া নিজের কন্যা সন্তানকে আর দেখা হলনা দিনমজুরর শহিদুলের। অভাবের তারনায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তার নাম মো. শহিদুল মোল্লা (২১)। এ বিষয়ে মৃতের বাবা বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। ওই দিন দুপুরে পুলিশ ডেমরার মোঘলনগর শহিদুল হকের বাড়ী থেকে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শহিদুল ওই বাড়ীর ভাড়াটিয়া ফরিদপুরের সদরপুর থানার মানারীচর গ্রামের মিলন মোল্লার ছেলে।
মৃতের বাবার বরাদ দিয়ে ডেমরা থানার অপারেশন অফিসার স্নেহাশীষ রায় বলেন, মৃত শহিদুল মোল্লা ইট ভাঙ্গার দিনমজুর ছিলেন। তার বাবা পেশায় একজন রিকশাচালক। তার ছোট ভাই মহিদুল মোল্লা (৯) অন্য কাজ করেন। অভাব ও টানাটানির সংসার। ২ বছর আগে শহিদুলকে বিয়ে করান তার বাবা মা। ৩ মাস আগে গর্ভবতী অবস্থায় শহিদুলের স্ত্রী সাগরী আক্তার (২০) গ্রামে তার বাবার বাড়ী ফরিদপুরে চলে যান। গত ১৫ দিন আগে শ্বশুর বাড়ীতে থেকে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে শহিদুলের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। স্ত্রীর গর্ভবতী অবস্থা থেকে সন্তান জন্ম নেয়া সময় পর্যন্ত তেমন একটা খরচ দিতে পারতেন না শহিদুল। এ নিয়ে প্রায়ই মন খারাপ করতেন তিনি।
স্নেহাশীষ রায় আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে মৃতের মা শাহিনুর বেগম তার নাতনীকে দেখতে যাবে বলে শহিদুলকে সঙ্গে যেতে বলেন। এ সময় হাসিমুখে শহিদুল শ্বশুর বাড়ীতে খরচের জন্য মায়ের কাছে ১ হাজার টাকা চান। অভাবী মায়ের কাছে এত টাকা নেই। ফরিদপুরে যেতে ভাড়াসহ অন্যান্য অনেক খরচ। টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করলে মাকে নিজের কষ্ট বুঝতে না দিয়ে ছেলেটি হাসিমুখে বলেন ‘আমি আজ শ্বশুর বাড়ীতে যাবনা, মা আমার মেয়েকে তুমি দেখে এস’। আমি পরে যাব। এদিকে মা না বুঝে সরলমনে একাই ফরিদপুরে রওয়ানা হন। তারা সবাই মিলে শাহিনুর বেগমকে বাসে তুলে দেন। পরে বাবা ও ছোট ভাই চলে যান কাজে। এ সুযোগে শহিদুল সাংসারিক অভাবকে কেন্দ্র করে মনের কষ্টে ও অভিমানে আত্মহত্যা করেন বলে জানান তার বাবা মিলন মোল্লা।
