ডেমরায় আলোচিত দোলা ও নুসরাতের ধর্ষক ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন
ডেমরা নিউজঃ ডেমরায় আলোচিত দোলা ও নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে ধর্ষক ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দোলা ও নুসরাতের হত্যাকারী গোলাম মোস্তফার ফাঁসির দাবীতে স্লোগান দেন। মানববন্ধনে এলাকাবাসী জানান, ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক ও মর্মান্তিক বলে তারা গভীরভাবে শোকাহত। নরপিচাশ গোলাম মোস্তফা তারে ঘরে নিয়ে ওই দুটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পরে হত্যা করেছে। তার ঘর থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় দোলা ও নুসরাতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোকের মাতম। এখনো নুসরাতের মা মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি ভাবছেন তার সন্তান এখনি হয়তো ফিরে আসবেন।
মানববন্ধনে কান্নাভরা কন্ঠে দোলার মা পারভিন বলেন, আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা দোলা পৃথিবীতে নেই। যারা এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের জনসম্মুখে ফাঁসি চাই। এতে করে আর কোন মায়ের শিশু সন্তান যেন এ ধরণের নির্মম হত্যার শিকার না হন।
উল্লেখ্য, ডেমরায় সোমবার দুপুরে নিখোঁজ দোলা ও নুসরাতের মরদেহ ওইদিন রাতে ডেমরার শাহজালাল রোডস্থ এসি গলির আবুল হোসেনের বাড়ীর নিচতলার ভাড়াটিয়া গোলাম মোস্তফার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ পর্যন্ত অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার স্ত্রী আখি খানম, তার ছেলে জিহাদ ও নূরহোসেন নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো-ডেমরার শাহজালাল রোডের এসি গলির মৃত কালাম মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া পটুয়াখালীর দশমিনা থানার আলীপুরা গ্রামের মো. ফরিদুল ইসলামের মেয়ে ফারিয়া আক্তার দোলা (৫) ও ওই এলাকার মৃত রশিদ মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি থানার বাউকান্দি গ্রামের পলাশ মিয়ার মেয়ে নুসরাত জাহান (৪.৫)। লাশ দুটি উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের সঠিক কোন কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষণের চেষ্টায় শিশু দুটিকে হত্যা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেমরা থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে তদন্তসহ অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দোলা ও নুসরাত ডেমরার কোনাপাড়া এ কে আইডিয়াল স্কুলে পড়াশোনা করতো। তারা ছিল খেলার সাথী। সোমবার দুপুরে নুসরাতকে স্কুলে প্লে বেবি শ্রেণীতে ভর্তি করলে নতুন বই নিয়ে বাড়ী ফিরে সে। দোলা ওই স্কুলে নার্সারীতে পড়তো। তার বাবা পলাশ যাত্রাবাড়ীতে কাঁচামালের ব্যবসার কাজ শেষে বাড়ী ফিরে নিজে নুসরাতকে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন। পরে রোদ পোহানো ও খেলার উদ্যেশ্যে দোলার সঙ্গে ঘর থেকে বাইরে বের হয় নুসরাত। আধা ঘন্টার মধ্যেই দুপুর ২ টা থেকে তারা নিখোঁজ হয়। ওইদিন বিকালে এ ঘটনায় এলাকায় মাইকিং করা হয়।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মোস্তফার স্ত্রী আখী খানম ছেলেকে নিয়ে কাজ শেষে গার্মেন্ট থেকে বাড়ী ফিরেন। এ সময় ঘরে বাচ্চা দুটির সেন্ডেল দেখতে পেয়ে তার স্বামী গোলাম মোস্তফাকে প্রশ্ন করেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আখীকে মারধর করে ঘরে তালা দিয়ে মোস্তফা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আখী দৌড়ে পাশের ঘরে এসে আশ্রয় নেয়। এদিকে স্থানীয় একটি মেয়ে সন্দেহ বশত ওই বাড়ীতে আসলে উপস্থিত অন্যান্যদের সহযোগীতায় লাশের সন্ধান পায়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ঘরের তালা ভেঙ্গে খাটের নিচে লাশ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।
এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত ঘটনা ময়না তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
