করোনায় থমকে আছে জনজীবন মিলছেনা ত্রাণ সহায়তা:দুশ্চিন্তায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের লাখো পরিবার
আব্দুস সালাম ঃবিশ্বে করোনার ভয়াল থাবায় শঙ্কিত মানুষ ২০২০ সালের সারাবিশ্বে এই করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
সাত দিনের কঠোর লকডাউনে করোনা রোগীর শনাক্তের হার আকাশচুম্বী পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন একে একে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড জানাচ্ছে আইসিডিডিআর। দেশের সার্বিক অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার সেনাবাহিনী বিজিপি পুলিশ র্যাব সহ জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গণ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর লকডাউন সফল করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশ জুড়ে সাধারণ জনগণকে ঘরে রাখতে বিভিন্ন প্রকার জেল জরিমানা করছে সড়কে অপ্রয়োজনীয়’ কাউকে দেখলে জরিমানা ও গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হচ্ছে তবুও সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সূত্রে জানা যায় মানুষকে সচেতনতা করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তারপরও মানুষ নানান অজুহাতে বাসা থেকে বের হচ্ছে।
করোনা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ঢেউয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে শনাক্তের হার পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল এ অবস্থায় সরকার এর ঘোষিত কঠোর সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্তে বেকার হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর এলাকায় তাদের বসবাস। অনেকে দিন আনে দিন খায় এ অবস্থায় সরকারের লকডাউনে বিপাকে তারা। ২০২০ সালের লকডাউনে সরকার বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী ও প্রণোদনা চালু করেছিল সঙ্গে এগিয়ে এসেছিল বিত্তবানরা কিন্তু বাংলাদেশের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সামগ্রী ও প্রণোদনা জোরালো কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ বিভিন্ন পেশায় কর্মহীন হাওয়ায় তাদের সংসার পরিচালনায় পড়তে হচ্ছে বিপাকে এইদিকে অধিক যন্ত্রণাদায়ক বাসা ভাড়া নেই ইনকাম নেই টাকা পয়সা তারপরও দিতে হবে বাসা ভাড়া বিদ্যুৎ বিল সহ নানা খরচা পরিবারের কোন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়লে নেই চিকিৎসা টাকা সব মিলিয়ে করোনার মধ্যে বিপাকে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ। এক রিকশাওয়ালা বলেন ভাই প্রতিদিন যা কামাই করি তা দিয়ে সংসারে বাজার করতে হয় বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচা জোগার করা মুশকিল। করোনার মধ্যে লকডাউনে গাড়ি বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি সংসারে দেখা দিয়েছে খাদ্যের অভাব অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছি। এইদিকে করোনার মধ্যে বিভিন্ন অফিস বন্ধ থাকায় কেউ কেউ বেতন পাননি তাদেরও একই দশা বিভিন্ন সাধারণ মানুষ কর্মহীন হাওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এদিকে দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ।
নিম্নআয়ের যারা ফুটপাতে ব্যবসা করে তাদের অবস্থা করুন ইতিমধ্যে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে তাদের আয়-রোজগার নেই বললেই চলে এক ব্যক্তি জানান এভাবে চলতে থাকলে শেষ সম্বল টুকু হারাতে হবে। তার পেটের দায়ে রাস্তায় দোকান করে সংসার পরিচালনা করে সেটাও বন্ধ তাই সন্তানদের নিয়ে খাবারের চিন্তায় ঘুম আসে না তাদের। কঠোর লকডাউনে হতদরিদ্র লাখো পরিবারের মাঝে বাড়ছে ক্ষুধার জ্বালা। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগী হতদরিদ্ররাসহ বাজার ও এলাকার দোকানিরা, বিভিন্ন পেশার নিম্ন আয়ের লাখো মানুষ। এদিকে কর্মহীন দরিদ্র মানুষগুলো ইতিমধ্যে খাদ্য সংকটে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় জর্জরতি হয়ে পড়েছেন। আর সংসার চালাতে গিয়ে তাদের মধ্যে বাড়ছে ঋনের বোঝা। এদিকে রোজগারের আশায় পুলিশের ভয়ে অনেকে লুকিয়ে কাজ করলেও পুলিশি বাঁধায় তা বেশিরভাগ সময় পন্ড হয়ে যায়। আর লকডাউন অমান্য করে যারা অভ্যন্তরীণ সড়কে থ্রি হুইলার চালাচ্ছেন তাদের প্রতিদিনই পুলিশ আটক করে জরিমানা সম্মুখীন করছে। এছাড়া বাজার ও এলাকার অনেক দোকানিরা পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে দোকান চালু রেখে জরিমানার শিকার হলেও থামছেনা তারা। এক দোকানি জানান অল্প সময় বেচা বিক্রি করে আগের মত লাভ না হওয়ার কারণে দোকান ভাড়া সহ কর্মচারীদের বেতন নিজের সংসার চালানোর অর্থ আয় হয় না সে কারণে মাঝেমধ্যে লকডাউন এর মাঝে দোকান খুলে বেচাবিক্রি চেষ্টা করেন তারা এটা শুধুমাত্র পেটের তাড়নায়।
এছাড়া দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ করোনার প্রতিরোধে উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যতিরেকে সমাজে ঘোরাফেরা চলাচল করে থাকে বাজার গুলোতে ২০২০ সালের মতো সুরক্ষা বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবস্থা করেছিল সাধারণ মানুষ বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এ অবস্থায় মানুষের কোন প্রকার সুরক্ষা নেওয়ার চেষ্টা নেই গ্রামগঞ্জে মানুষ মাক্স ছাড়া চলাফেরা করে প্রশাসনের তৎপরতায় অনেক স্থানে করা হয়েছে জরিমানা তবুও সাধারণ মানুষ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চলাচল করছে নিয়মিত এ যেন এক নিয়ম ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা অন্যদিকে হাসপাতাল গুলোতে তিল ধরনের ঠাই নেই করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে অক্সিজেন এর প্রকট আকার ধারণ করেছে। আইসিও সংকটে অনেক রোগী মারা যাচ্ছে তারপরও সাধারণ মানুষের চলাচলের অনেকটা উদাসিনী নেই সুরক্ষা ব্যবস্থা এ যেন নিয়ম নীতি ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা।
সরকার এবং স্বাস্থ্য সংস্থা সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে বাইরে যেতে নিষেধ করলেও মানুষ নানান অজুহাতে বাইরে ছুটে বেড়ায় এতে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালগুলোতে কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার।
অনেকের ধারণা এভাবে লকডাউন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
তাই সরকারের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে নিয়ম শৃংখলার মধ্যে নীতি নির্ধারণ করতে হবে নইলে ভবিষ্যতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো আরো সংকটের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
