leadnewsআন্তর্জাতিক

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা

স্পেন থেকে পুরোপুরি পৃথক হতে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কাতালোনিয়া। শুক্রবার কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে স্বাধীনতা ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৭০ জন স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১০টি। দুটি ব্যালট ফাঁকা ছিল। তবে বিরোধী দলের এমপিরা ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। ভোটাভুটির আগে আগে তারা পার্লামেন্ট থেকে ওয়াক আউট করেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয় যখন কাতালোনিয়ায় প্রত্যক্ষ শাসন জারির কথা বলছিলেন, তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই কাতালান পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণার পক্ষে রায় দিল।

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর বার্সেলোনায় পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হওয়া স্বাধীনতাপন্থীরা উল্লাস করতে থাকেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তবে ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা গেছে মাদ্রিদে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী রাহয় বলেছেন, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে কাতালোনিয়ায় প্রত্যক্ষ শাসন চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ, কাতালোনিয়ার সরকার পরিবারগুলোকে এবং সমাজকে বিভক্ত করছে। এর মধ্য দিয়ে কাতালোনিয়ার রাজস্ব,পুলিশ ও সরকারি মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে মাদ্রিদ সরকার।

শুক্রবার স্প্যানিশ সিনেটে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাতালোনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সিনেটরদের প্রতি আহ্বান জানান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়। কেবল তাই নয়, কাতালোনিয়ার নেতা কার্লোস পুজেমন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কাতালোনিয়ার সকল আঞ্চলিক মন্ত্রীদেরকে অপসারিত করতে চান বলেও জানান তিনি।

এর আগে কেন্দ্রের বাধা উপেক্ষা করে ১ অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করা হয় কাতালোনিয়ায়। এতে ৯০ শতাংশ ভোটার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন। স্পেন সরকার এই গণভোটকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করে এসেছে।

স্পেনের বিত্তশালী অঞ্চল কাতালোনিয়া। জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। এর রাজধানী বার্সেলোনা। অঞ্চলটির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। পাঁচ বছর ধরেই স্বাধীনতার কথা উঠছে। তবে ২০১৫ সালে কাতালোনিয়ার প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান সেখানকার স্বাধীনতাকামীরা। নির্বাচনের ওই ফলের মধ্য দিয়ে স্পেন থেকে পৃথক হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যায় কাতালোনিয়া।