leadnewsডেমরা

ডেমরায় ডাইং কারখানায় প্রিন্টিং শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

ডেমরা নিউজ:ডেমরায় মো. শুক্কুর আলী (৪৫) নামে একজন প্রিন্টিং শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার পৌনে ৯ টার দিকে বামৈল এলকার ডেমরা ডাইং নামের প্রিন্টিং কারখানার ৪ তলার ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ শুক্কুর আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় রেনোভা ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এ সময় ওই ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার শুক্কুর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ ওই ক্লিনিক থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য রোববার বিকালে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শুক্কুর আলী চাঁদপুরের কচুয়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২০ থেকে ২২ বছর ধরে শুক্কুর আলী ডেমরা ডাইংয়ে প্রিন্টিংয়ের কাজ করছেন। তিনি এ কারখানার দ্বিতীয় তলায় কাজ করেন। কিন্তু ৪ তলার ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলা হচ্ছে। আরও জানা যায়, সকালে শুক্কুর আলী পেটে ব্যাথা ও বমি বমি ভাব হচ্ছিল বলে সে চারতলায় টয়লেটে যায় এবং ছাদেই বমি করা শুরু করে। এক পর্যায়ে মাথা ঘুড়ে সে নিচে পড়ে যায়। এতে তার মাথার পেছন দিকে থেতলে গিয়ে গালে ও কপালে ধারালো কিছুর আঘাতের মতো ক্ষত হয়। কিন্তু ওই কারখানায় ২য় তলায় শুক্কুর আলীর কর্মস্থলেও টয়লেট ছিল। আর ছাদেও রেলিং ও সানসেট ছিল। বমি হলেও নিচে পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কর্মরত অন্যান্য শ্রমিকেরা। আর ছাদ থেকে পড়লেও শরীরের অন্যান্য জায়গায় ক্ষ তবা আঘাতের চিহ্ন থাকতো। এর আগেও এ কারখানায় কয়েকটি মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনাকেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারখানার ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান মান্নান বলেন, আমাকে ফোন করার পর কারখানায় এসে দেখি শুক্কুর আলীর লাশ ছাদের নিচে পড়ে আছে। কিভাবে পড়েছে তা আমি দেখিনি কিন্তু শ্রমিকদের কাছে শুনেছি।
মৃতের পরিবার ও স্ত্রী সেতারার দাবি-আমরা মৃত্যুর ঘটনা দেখিনি, তবে যা শুনেছে এতে কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমরা এ বিষয়ে মামলা ও সুষ্ঠ বিচার চাই।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে। এক্ষেত্রে শুক্কুর আলীর বমির সঙ্গে যদি ব্রেইন স্ট্রোক হয়ে থাকে তাহলে ছাদ থেকে পড়তেও পারে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে এ মৃত্যুর আসল রহস্য বের হয়ে যাবে। আর মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।