leadnewsজাতীয়

দাবি মানার পরও বুয়েটে আন্দোলন অযৌক্তিক: প্রধানমন্ত্রী

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার হলেও এখনো বুয়েটে শিক্ষার্থীরা কেন আন্দোলন করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিক লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেওয়ার সময় এই প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবির সবগুলোইতো মেনে নিয়েছেন ভিসি। তারপরও নাকি তারা আন্দোলন করবে। কেনো করবে জানি না। এরপর আন্দোলন করার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে?

বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে গত রবিবার রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। তারপর থেকেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বুয়েট।

আবরার হত্যার বিচারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দাবি পূরণ না হলে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বুয়েট উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। সেখানে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং আবরার হত্যা মামলার ১৯ আসামিকে সাময়িক বহিষ্কার করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্য দাবিগুলোও পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন উপাচার্য।

কিন্তু তাতে আশ্বস্ত হননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও হলগুলোতে এখনও দলীয় নেতাকর্মী রয়েছেন। ক্যাম্পাসের পরিবেশ এখনও ‘নিরাপদ নয়’। তাই আগামী ১৪ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে তারা। দাবি আদায়ে আজও আন্দোলন অব্যাবত রেখেছেন তারা।

মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী হিসেবে দেখি, অত্যাচারীকে অত্যাচারী হিসেবেই দেখি। কোনও অন্যায় অবিচার সহ্য করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বুয়েটের ঘটনা শোনার পরপরই আমি পুলিশকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তবে তারা বুয়েটে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার সময় বাধার মুখে পড়ে। এটা কেন জানি না।’

এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি ও গ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোর বিষয়েও কথা বলেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমরা কাজ করছি। বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো, কারও কাছে মাথা নিচু করে নয়।’

তিনি বলেন, ‘যদি ন্যায্য অধিকার আদায় করে থাকি আমি শেখ হাসিনাই করেছি। লাভ লোকসান হিসাব করলে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি।’

পরে প্রধানমন্ত্রী মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।