বাউফলে কর্মহীন ইমারত শ্রমিকদের মনবেতর জীবন-যাপন
তোফাজ্জেল হোসেন,বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: করোনার প্রভাবে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ইমারত নির্মাণ শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ দু:সময়ে তাঁদের পাশে নেই কোন জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের বিত্তশীলরা। ইমারত নির্মাণের কাজে যে শ্রমিকরা ব্যস্ত থাকার কথা, করোনার প্রভাবে সরকারের নির্দেশানা মেনে চলায় আজ তারা প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত কর্মহীন অলস সময় পাড় করছেন। ফলে তাঁদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কখনও খেয়ে কখনও না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ তারাও এ সমাজের মানুষ , তাদের আছে ক্ষুধার জ্বালা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী তাদেরও কর্মহীন সময়ে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও আজঅবধি সে সহায়তাটুকুও পায়নি বলে জানিয়েছেন ইমারত নির্মান শ্রমিকদের মধ্যে অনেকে। বাউফল উপজেলা শাখার ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশাররেব হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রামন রোধে গত ২৪ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারন ছুটি ঘোষণা করেন সরকার। এ সময়ে জনাসমাগম বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসন কর্তৃক ইমারত নির্মানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার কারনে প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত শ্রমিকারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এতে দুই শতাধিক নির্মাণ শ্রমিকের আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কবে নাগাদ আবার শ্রমিকরা কাজে যোগদিতে পারবে তাও জানিনা। কর্মহীন হয়ে পড়ায় এবং বিকল্প কোন কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করিতেছেন। হতাশ হয়ে পড়েছেন এ সবের পরিবারগুলো। বুকভরা আর্তনাদ চলছে তাদের মধ্যে, যার কান্না কেউ দেখছেনা। শত অভাবের তাড়োনা থাকলেও লজ্জায় মুখ খুলতে পারছেন না এরা। এলজিইডি’র মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নাম নেয়া হয়েছে কিন্তু তারা এখনও কোন সহায়তা পায়নি। আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে সরকারি কিংবা কোন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কারো কাছ খেকে কোন খাদ্য সহায়তা এখনও পাইনি। তাই সরকারিভাবে এই শ্রমিকদের খাদ্য সহায়তা আওতায় আনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কছে জোড় দাবী জানাই । পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তশীলদের প্রতিও এই সমস্ত কর্মহীন শ্রমিকদের পাশে দাড়ানোর জন্য আহব্বান জানাই। এই সংগঠনটি ২০১৭ সালে রেজিষ্ট্রিভুক্ত হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর-২২৮৭ এবং শ্রমিক সংখ্যা দুই শতাধিকেরও বেশি।
এ ব্যাপারে বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল এর ব্যক্তিগত সহকারি মোঃ নাসির হোসেন বলেন, সরকারি সাহায্য ব্যতীত এ পর্যন্ত মেয়র মহোদয় ২২শত পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন । এ ধারা এখনও অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার কর্মহীন সব শ্রেনিপেশার লোকজন এ সহায়তা পাবেন। ইমারত নির্মান শ্রমিকরদেরকেও খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে এ সময়ে আশ্বাস্ত করেন তিনি।
