বাউফলে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে দোকানপাটে প্রচন্ড ভিড়
তোফাজ্জেল হোসেন,বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর বাউফলে দোকানপাটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এতে ক্রেতা- বিক্রেতা কারো পক্ষেই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভাব হচ্ছেনা। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেড় মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে গত রোববার থেকে দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়া হলে সে দিন থেকেই দোকানপাট খোলেন বাউফলের ব্যবসায়ীরা।
আজ শুক্রবার পৌর শহরের বিভিন্ন মাকের্ট ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীসহ সব ধরনের দোকান খুলছে। সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা । কিন্তু মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্য বিধি। অমান্য করা হচ্ছো সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম। প্রোটেকশন ছাড়াই কেনাকাটার জন্য দোকানগুলোতে ভিড় জমানো হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতা কারো মুখে মাক্স ও হাতে গ্লোভস নেই। তাঁরা এক অপরের গায়ের সাথে গা লাগিয়ে কেনাকাটা করছেন। এরমধ্যে কেউ হাঁচি কাঁশি দিচ্ছেন। এরকম একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার কালাইয়া, কালিশুরী, বাগা ও হাজির হাট বাজারেও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক ব্যক্তি অভিন্ন সুরে বলেন, শুরুতে উপজেলা ও থানা প্রশাসনে তৎপরতা সন্তোষজনক পরিলক্ষিত হলেও বর্তমানে তারা গা ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ উপজেলায় কমিটি রয়েছে। এ কমিটিতে ইউএনও, ওসিসহ জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। কিন্তু তাদের কোন কর্মকান্ড চোখে পরছেনা। বাউফল পৌরসভার মেয়রের উদ্যোগে কিছু কিছু সামাজি কর্মকান্ড চলমান রয়েছে। শহরের রাস্তায় ঘাটে জীবানুনাশক ওষুধ ছিটানো, বাজার স্থানন্তর, বিভিন্ন পয়েন্টে হাত ধোয়ার ড্রাম ও বেসিন স্থাপন করা হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দোকানপাট খোলার পর যেভাবে মানুষ বাজারে ভীড় করছেন, তাতে করোনার সংক্রামন আরো বাড়বে। ঈদের মার্কেটে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রন করা না গেলে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে দাড়াবে।
এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘ ঈদের মার্কেটগুলোতে যে ভাবে জনসমাগম হচ্ছে, তাতে আমি শঙ্কিত। এ অবস্থার উত্তোরণ না হলে ভবিষ্যতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মত হবে।’ তিনি স্ব্যাবিধি মেনে চলার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
