leadnewsরাজনীতি

ভিন্নমত হলেও মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই: কাদের

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভিন্নমত হলেও কাউকে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিচার হবে। কেউ ছাড় পাবে না।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

রবিবার রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। তাকে রাত আটটার দিকে কয়েকজন ডেকে নেয় বলে জানান রুমমেটরা।

এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, ‘দেখুন এটা আমি শুনেছি, এটা আমি জানি। একটু আগে পুলিশের আইজির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাকে বলেছি, আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টা আলাপ করতে পারেন।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি, এখানে ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার কারো নেই। কাজেই এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারাই অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, পারসোনালি আমি বলেছি- এখানে আমার কোনো ভিন্ন মত নেই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।’

‘ভারতের সদিচ্ছার অভাব নেই’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপির সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। দেওয়া-নেওয়া সম্পর্ক বন্ধুত্বে থাকে। সব দিয়ে ফেলেছি, বিষয়টা এমন নয়। আমাদের পাওয়ার বিষয়টা অনেক বেশি। সীমান্ত সমস্যার সমাধান আমরাই করেছি। যারা অভিযোগ করে, তারা তা করতে পারেনি। ৬৮ বছর পর এ সমস্যার সমাধান হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে ছিটমহল সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়নি। সমুদ্রসীমার ব্যাপারে ভারত আপিল করতে পারত, তারা তা করেনি। সম্পর্ক ভালো থাকলে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। বৈরিতা করে কিছু পাওয়া যায় না।’

কাদের বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি শেখ হাসিনার আমলে হয়েছে। তিস্তা চুক্তিও এই সরকারের আমলেই হবে। ভারত সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের চুক্তি আড়াল করতে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—বিএনপির এমন দাবি প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এটা হাস্যকর মনে হয় না? দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্পর্ক কী? গ্রেপ্তারে কেন বিলম্ব হয়েছে, সেটা র‌্যাবের ডিজি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত কেউ রেহাই পায় না। পালিয়ে থাকার মতো অবস্থা সৃষ্টি করা যায়, তবে সেটি ফলপ্রসূ হয় না, একপর্যায়ে ধরা পড়বেই। সম্রাট ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাই সীমান্তের কাছাকাছি একটি বাড়িতে লুকিয়ে ছিল।’

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলবে জানিয়ে কাদের বলেন, ’১৫ দিনেই কি সব কমপ্লিট করব? আরও অনেক কিছুই দেখার আছে। কাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, কেন চলছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এখানে কোনো লুকোচুরির কিছু নেই। আমরা যা বলছি, মুখে বলছি না, অ্যাকশনে প্রমাণ করেছি। যারা কালপ্রিট, করাপশন করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনো সংকোচ নেই।’