মিয়ানমারের নাগরিকদের ভারতে আশ্রয় দেয়ার আহ্বান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর
ভারত সরকারের কাছে মিয়ানমারের অবৈধ অভিবাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথংগা। মানবিক বিবেচনায় নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পুলিশসহ সহস্রাধিক মিয়ানমারের নাগরিক ভারতে পালিয়ে এসেছে। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে মিয়ানমারের ৫১০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
গত ১৮ মার্চ ভারতের প্রধানমন্দ্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দেয়ার দাবিতে একটি চিঠি লেখেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথংগা। অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদনপত্রে তিনি নরেন্দ্র মোদির সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চিঠিতে জোরামথংগা বলেন, মিয়ানমারে চিন প্রদেশের মানুষের সঙ্গে নৃগোষ্ঠীগত সম্পর্ক থাকার কারণে তাদের দুদর্শায় মিজোরামের জনগণ উদাসীন থাকতে পারে না। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপদেশ মিজোরাম রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য নয়।
চিঠিতে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সুনির্দিষ্ট বৈদেশিক নীতি সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণের বিষয়টি আমি বুঝি। কিন্তু আমরা এই মানবিক সংকট উপেক্ষা করতে পারি না। মিয়ানমারে ব্যাপকভাবে মানবিক বিপর্যয় সংগঠিত হচ্ছে, নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। প্রতিদিন ভয়ার্ত মানুষজন সীমান্ত অতিক্রম করে আশ্রয় লাভের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মিজোরাম রাজ্য তাদের ভোগান্তিতে নিশ্চুপ থাকতে পারে না। বিশ্বের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এবং মিয়ানমারের নিকটতম প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের এ ব্যাপারে অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিজোরামের সংসদ সদস্য কে ভানলালভেনা বলেছেন, এখন পর্যন্ত হাজারেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক মিজোরাম প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে রাজ্যের সিআইডির এক সদস্য জানিয়েছেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর ৫৪৭জন মিয়ানমারের নাগরিক প্রদেশটিতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই অনেক মিজোরামের অনেক বাসিন্দা মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছন। ফলে অভিবাসীদের সংখ্যায় আরও বেশি হতে পারে। স্থানীয় এনজিও’র মাধ্যমে মিজোরামের আটটি জেলায় মিয়ানমারের নাগরিকরা আশ্রয় নিয়েছেন।

