সাকিবের লাথি কুলুষিত ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য পথ প্রদর্শক হবে।
ফিরোজ আলম:ক্রিকেট বাংলাদেশের জাতীয় খেলা না হলে ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা।ক্রিকেটের কারনেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই পরিচিতি পেয়েছে।আমি জোর দিয়েই বলতে পারি এদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া আর কোন মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কিংবা সেলিব্রেটি দেশে এবং বিদেশে সাকিব আল হাসান সহ অন্য কিছু ক্রিকেটার থেকে বেশি জনপ্রিয় হবেন না।
কিন্তু গতকাল ঘরোয়া লীগের আবাহনী ও মোহামেডান ম্যাচে সাকিব আল হাসান
স্টাম্পে একবার লাথি মেরেছে আরেকবার স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেছে,আরেকবার আবাহনীর বাজে দর্শকদের গালির প্রতিবাদে খারাপ অঙ্গভঙ্গি ও করেছেন। যা হয়েছে নিঃসন্দেহে তা স্পিরিট অফ ক্রিকেটের পরিপন্থি।এতে ক্রিকেট খেলার সৌন্দর্যহানি ঘটেছে এবং এটি ক্রিকেটীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।সেই জন্য সাকিব আল হাসানের শাস্তি হওয়া ও জরুরী।
কিন্তু আমি শতাধিক বারের মত সাকিবের এলবির আবেদনটার রিপ্লে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে এতে আম্পায়ারের আউট ডিসিশনে আসার দরকার ছিল। তারপরও একজন আম্পায়ারের একটি এলবিডব্লিউ আবেদন নাকচ করার অনেক কারণ থাকতে পারে।
অন্যদিকে দেখা গেছে এলবিডব্লিউ আবেদনের ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই আম্পায়ার আউট আবেদন নাকচ করলেন।সাধারণত একজন আম্পায়ার এলবির ক্ষেত্রে আবেদন নাকচ করার আগে কিছুক্ষণ সময় নেন, নিজের মাথার ভিতরে সেটার এক ধরনের রিপ্লে এবং রিভিউ করেন, তারপর ডিসিশন দেন। কিন্তু এখানে সেটা হয়নি।
আবাহনী যখন পাঁচ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে।এমতাবস্থায় আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্ত সাকিব আল হাসান মেনে নিতে পারে নি। মেনে নিলাম সাকিব প্রথমবার স্টাম্পে লাথি মেরে ভুল করেছেন।এবার দ্বিতীয় পয়েন্টে আসি ছয় ওভার হতে এক বল বাকি, এই অবস্থায় আম্পায়ার খেলা বন্ধ করে দিলেন। ক্রিকেটিয় আইন অনুসারে একজন আম্পায়ার এই খেলা তখনি বন্ধ করতে পারতেন যদি এই এক বল খেলতে দিলে যদি কোন খেলোয়ার বা ম্যাচ অফিসিয়ালের মারাত্মক ইনজুরি হওয়ার লেজিটিমেট রিস্ক থাকে।
কিন্তু ব্যাটসম্যান-বোলার-ফিল্ডার সহ সবাই গার্ড নিয়ে প্রস্তুত, বৃষ্টির অবস্থা খুব খারাপ ছিলনা নি:সন্দেহে । তাছাড়া এই একটা বল খেলা হলেই ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে খেলার রেজাল্ট হয়ত বদলে যেতে ও পারে, এই অবস্থায় আম্পায়ার খেলা বন্ধ করে যে পক্ষপাত দেখালেন তা ঘরোয়া ক্রিকেট লীগের জন্য লজ্জার ছিল। এবং এটিও শাস্তি যোগ্য অপরাধ।তাহলে কি সাকিবের ক্ষোভের কারণটা কিছুটা যৌক্তিক ছিল?জাতীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে দিনে-দুপুরে ডাকাতি করলে সাকিবের মত সবারই মেজাজ হারানোরই কথা।
ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাকিবের আচরণ সমর্থন যোগ্য নন তা যেমন ঠিক এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ তেমনি ঘরোয়া ক্রিকেটে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তার এই প্রতিবাদ হয়ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চোখে এবং অসাধু আম্পায়ার ও সিন্ডিকেটকারিদের চোখে আঙ্গুল দেওয়ার মত প্রশংসনীয় কাজ।
বছর দুয়েক আগে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে দেখা গেছে
ভুল আউটের প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যাটসম্যান উইকেটের ওপর বসে আছেন। খেলা বন্ধ।আম্পায়ার খেলোয়াড়কে অনুনয় করে বলছেন, ‘আমার কিছু করার নেই। আজ তোমাদের হারাতেই হবে। নইলে আমি আর ম্যাচ পাব না।
মাঠে ক্ষমতাসীন ক্লাবগুলোর পক্ষে ডাকাতের মত প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের আম্পায়ারা।সেকারনেই ম্যাচ আম্পায়াররা অনেক আগেই সেই মর্যাদার আসন হারিয়েছেন
তাই বলব একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ কখনো আরেকটা অন্যায় দিয়ে হয় না। মাঠে স্টাম্পে লাথি মেরে, স্টাম্প উপড়ে ফেলে সাকিব যে ভুল করেছেন তাতে তার শাস্তি না হলে বিশেষ কিছু ক্লাবকে অন্যায় সুবিধা দিতে গিয়ে কিছু আম্পায়ার যেভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ অন্য ক্লাবের খেলোয়াড়দের সাফল্যবঞ্চিত করে চলেছেন, তারা ও প্রতিবাদী হয়ে সাকিবকের মত তেমন আচরনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাই ডাকাত ক্লাবগুলি এবং তাদের পুষ্ট ক্রিকেটীয় লজ্জার অংশীদার আম্পায়ারদেরকে ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।মনে রাখতে হবে নোংরা ক্লাবরাজনীতিতে কলুষিত বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য এ রকম আরেকটা লাথি বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায় না।তাই এখনি অন্যায়কারিদের দমন না করলে ভদ্র মানুষের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেট অসাধুদের দখলে চলে যাবে।
লেখক ও কলামিস্ট
ফিরোজ আলম,বিভাগীয় প্রধান(অনার্স শাখা),আয়েশা (রা: )মহিলা অনার্স কামিল মাদ্রাসা, সদর, লক্ষীপুর।সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটি এবং সাধারন সম্পাদক লক্ষীপুর জেলা শাখা।বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন(বিএমজিটিএ) ।
alamferoz4525@gmail.com
।মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় ।

