সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা
ডেমরা নিউজ ডেস্কঃ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি নির্দেশনা মেনে চলতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের তদারকির নির্দেশ দেন।
বৈঠক শেষে দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব তথ্য জানান।
মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে তথা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকের শুরুতে আলোচনা হয়। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- সড়কে যে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে তা রোধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- লং ডিসটেন্স (দূর পাল্লার) ড্রাইভিং যারা করেন, সেখানে বিকল্প ড্রাইভারের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ একজন ড্রাইভারের গাড়িচালনা একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি যেন না হয়। এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটা নিয়ম যে, একজন ড্রাইভার দূরপাল্লায় ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাবে না। ড্রাইভার ও হেলপারদের (চালকের সহকারী) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। রাস্তায় পারাপারের ক্ষেত্রে পথচারীদের অনিয়মতান্ত্রিক পারাপার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। রাস্তায় সিগন্যাল যেন চালু থাকে। লোকজন যেন সিগন্যাল মেনে চলে সে ব্যবস্থা করা। জেব্রা ক্রসিং পথচারীদের জন্য অপরিহার্য করা। গাড়িতে যাত্রী ও চালকের সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক করা, যাতে তারা অবশ্যই সিটবেল্ট পরে চলেন। তিনি রাস্তার পাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরির নির্দেশনা দেন। যেখানে ড্রাইভাররা বিশ্রাম নিতে পারবেন এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং নৌপরিবহনমন্ত্রীকে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মোহাম্মদ শফিউল আলম।
সচিব বলেন, এসব নির্দেশনার বিষয় পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনে তিন মন্ত্রীকে একসঙ্গে বসার জন্য বলা হয়েছে। এটা ওনাদের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যেই রয়েছে, তারপরও একটু বসে আলাপ করা আর কি।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আগের অনেক সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেছেন কি না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, ওটা বাস্তবায়নের জন্যই তিনজনকে মাঝেমধ্যে বসার জন্য বলেছেন। কনসার্ন হলেন ওনারা তিনজনই বেশি।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ঈদের পরপরই বেশকিছু লোক মারা গেছে দুর্ঘটনায়। আমরা যখন মিটিং শুরু করি তখনই পাঁচজন মারা গেছে টাঙ্গাইলে।
বিআরটিএ তো ফিটনেসবিহীন গাড়ি রোধ করতে পারছে না, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শফিউল আলম বলেন, ‘আসলে এনফোর্সমেন্টের বিষয়টা তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। শুধু বিআরটিএ একা এটা পারবে না।’
আমাদের দেশে দূরপাল্লায় বিকল্প চালক রাখা হয় না, সিটবেল্টও নেই, এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘আস্তে আস্তে করতে হবে। এগুলো না করলে কীভাবে হবে? দেখা গেছে, অনেক দুর্ঘটনাই সিটবেল্ট না বাঁধার কারণে হয়। যেমন: মিশুক মুনির, ওনাদের যে কেইসটা তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওনারা সামনে বসা ছিলেন কিন্তু সিটবেল্ট বাঁধেননি।’
সচিব বলেন, সড়ক পরিবহন আইন কঠোর করা হয়েছে। যদিও ওটা এখনো পাস হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে আছে। এটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যাতে দ্রুততার সাথে ভেটিং বা নিষ্পত্তি করা হয়।
