হাত-পা বেঁধে মারধর আয়রণ দিয়ে ঝলছে দিলো প্রতিবন্ধী শিশুর শরীর
শহীদুল্লাহ গাজী:নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফাহিম নামে ১৩ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে আয়রণ দিয়ে শরীর ঝলছে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে শাহ্পরাণ নামে এক মাদরাসা সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (১৭জুন) উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে আল মদিনা ইসলামীয়া ছামির উদ্দিন সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ঘটে এ ঘটনাটি। প্রতিবন্ধী ফাহিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৭জুন) উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে আল মদিনা ইসলামীয়া ছামির উদ্দিন সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রতিবন্ধী শিশু ফাহিমকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং আয়রণ দিয়ে শরীর ঝলছে দেয় শাহ্পরাণ নামে এক সহকারী শিক্ষক। এখানকার পরিচালক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোঃ শাহ্জালাল ও তার ভাই সহকারী শিক্ষক শাহ্পরাণ বিষয়টি ধামা-চাপা দিতে প্রতিবন্ধী শিশুকে বাহিরে বের হতে না দিয়ে আটকে রাখে। এছাড়া নিষ্ঠুর আচরণে অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রতিবন্ধী ফাহিম। পরে বুধবার (২৩জুন) ভোরে এতিমখানা থেকে পালিয়ে চলে যায় নানা শহীদুল্লাহর কাছে। তার শরীরের অবস্থা গুরুতর দেখে নানা শহীদুল্লাহ তাকে তাৎক্ষণিক স্থানীয় ডিকেএমসি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে শিশু ফাহিম স্থানীয় ডিকে এম সি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহ্পরাণ এই এতিমখানার প্রতিটি এতিম শিশুদের উপর নানাভাবে শারীরিক অত্যাচার ও নির্যাতন করে। এমনকি শিশুদের দিয়ে সমস্ত কাজ করায়। শিশুরা তার কথা না শুনলেই মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং খাবার না দিয়ে কষ্ট দেয়। এ বিষয়ে কোন শিশুরা মুখ খুললেই হিং¯্র রূপ ধারণ করে শাহ্পরাণ। প্রতিবন্ধী শিশুরাও রেহায় পায় না শাহ্পরাণের কবল থেকে। গত ১ বছর আগেও এখানকার এক শিশুকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে এই শাহ্পরাণের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন এমন নিষ্ঠুর আচরণ করলেও এখানকার পরিচালক শাহ্জালাল কিছুই বলে না শাহ্পরাণকে। দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন তিনি। একটি গোপন সূত্রে জানা যায়, আল মদিনা ইসলামীয়া ছামির উদ্দিন সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক শাহ্জালালের নির্দেশেই শাহ্পরাণ এমন নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধী ফাহিমের নানা শহীদুল্লাহ প্রতিবেদককে জানান, তার মা-বাবার বিবাহ বিচ্ছেদের পর মা ফাতেমা চলে যান বিদেশে আর বাবা রনি নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তার নাতি ফাহিমকে ছোট থেকে তিনিই লালন-পালন করেন। নাতিকে দ্বীনি শিক্ষা দিতে তিনি উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার আল মদিনা ইসলামীয়া ছামির উদ্দিন সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দিয়ে দেন। প্রায় ১ বছর যাবৎ সেখানেই দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে সে। নাতি ফাহিমের খরচের জন্য এলাকার ওয়ার্ড কমিশনারের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, আমি এখনই পুলিশ পাঠিয়ে দিচ্ছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন যেহেতু জেনেছি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

