leadnewsডেমরা

ডেমরায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিষপানে স্বামীর আতœহত্যা

. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া
রাজধানীর ডেমরায় তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানে বিষপান করে ইমাম উদ্দিন (৩৬) নামে এক ব্যক্তি আতœহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ডেমরার দক্ষিণ পূর্ব বক্সনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে রোববার দুপুরে ডেমরা থানায় মৃতের দ্বিতীয় স্ত্রী তানজিলা হক ময়না ডেমরা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। মৃত ইমাম উদ্দিন নোয়াখালীর চরজব্বর থানার হাজীপুর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে।

মামলার বাদীনি ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমাম উদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ইএমই কোরে সিপাহী পদে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। বছর খানেক আগে তিনি প্রথম স্ত্রী পারভীন আক্তার শিল্পীর কথা গোপন করে বিয়ে করেন ময়নাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে স্বামী ইমাম উদ্দিন ও তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ হয় ময়নার। এদিকে পারভীন দিন দিন স্বামীর অবাধ্য হতে থাকেন। সংসারের জঞ্জালে এক পর্যায়ে গত বছর ৯ নভেম্বর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পারভীনের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হন ইমাম। এ ঘটনায় ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে তার। সুস্থতার পরে নানা পরিবারিক কলহে প্রথম স্ত্রী পারভীনকে তালাক দিয়ে ডেমরায় ময়নার বাসায় চলে আসেন ইমাম।

আরও জানা যায়, গত ৮ মাস যাবত ইমাম ওরিয়ন নামে একটি ওষুধ কোম্পানিতে এএসও পদে চাকুরীরত ছিলেন। কয়েকদিন আগে তিনি জানতে পারেন, সেনাবাহিনীতে তার বন্ধুদের সামনে পারভীন আয়ার কাজ করছেন। এ বিষয়সহ ওই স্ত্রীর অন্যান্য ঘটনা নিয়ে তিন চার দিন ধরে ময়নার কাছেও কষ্ট ও হিনমন্যতা প্রকাশ করেন ইমাম। এদিকে গত ১৪ অক্টোবর শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সবার অগচোরে কিটনাশক পান করেন তিনি। পরে ছটফট করতে করতে বমি শুরু হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করলে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সাসপেক্টেড ওপিসি পয়োজনিং বলে জানান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ডেমরা থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম বলেন, এর আগেও পারিবারিক কলহে চেষ্টা চালায় ইমাম। এ বিষয়ে ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালের চিকিৎসা সার্টিফিকেট দেখেছি। ইমামের মৃত্যুর কথা তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি কথার গুরুত্ব দেয়নি। মৃতের বড় ভাই ফোনে জানায়, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক ছিলনা। গ্রামের বাড়ীতেও যাতায়াত তেমন হয়নি। ইমামের মৃত্যুর বিষয়ে তাদের কোন স্বাভাবিক মন্তব্য ছিলনা বলেও জানান সেলিম।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং মৃতের লাশ ময়না তদন্ত সম্পন্ন হবে। ময়না তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এ মৃত্যুর সমস্ত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।