leadnewsরাজনীতি

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সভায় তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরলেন আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় জেলা পর্য়ায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ঢাকা বিভাগের বিশেষ সাংগঠনিক সভায় তুণমূলের নেতারা এমন অভিযোগ তোলে ধরেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঞ্চালনায় সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন,শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সভায় মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ, নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমত উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল বক্তব্য রাখেন।

এ সময় নেতারা নিজ নিজ জেলা/মহানগর কমিটির সাংগঠনিক রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে উপস্থাপন করেন।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক বলেন- ঘাটাইল ও ভুয়াপুরে আমরা কমিটি করতে পারিনি। এই সংকট থেকে আমাদের মুক্তি দিতে হবে। আমরা আপনাদের নিয়েই এই সমস্যা সমাধান করতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমাদের আরও কিছু সমস্যা আছে। যা এখানে বলতে পারছি না। তবে আমার মনে হয় আপনারা সবাই বিজ্ঞ মানুষ। আপনারা তার সবই জানেন। কারণ আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দল ঠিক থাকলেই এমপি-মন্ত্রী ঠিক থাকবে। তাই সেই বিষয়গুলোও সমাধান করতে হবে।

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর হাকিম বলেন, যারা সংগঠন বিরোধী কাজ করেন তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আমরা ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠাই। কিন্তু এগুলোর ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে একটা বিষয় আছে জেলা-উপজেলার সুপারিশ ৯০ দিনের মধ্যে যদি কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত না দেয় তাহলে সেটা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু আমি করি এটা উল্টো।

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কেরামত আলী বলেন, আমি সহযোগী সংগঠনের বিষয়ে একটা কথা বলতে চাই। যা নিয়ে আমরা খুবই সমস্যার মধ্যে রয়েছি। আমাদের এখানে ১৪ বছর ধরে যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। এজন্য তা মুখ থুবরে পড়েছে। আবার ডিও লেটারের মাধ্যমে কমিটি দেয়া হয়। ডিও লেটারের মাধ্যমে কমিটি হলে খুবই খারাপ হয়। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, আমাদের এখানে সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থা ভালো না। দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে। আমাদের আরও অনেক কথা আছে। তবে সব কথা প্রকাশ্যে বলা যায় না। আমাদের এভাবে মাঝেমধ্যে ডাকলে আমরা আমাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলতে পারবো।