Uncategorized

ঘূর্ণিঝড় মোরা: ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আরও শক্তিশালী হয়ে সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়ার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও এই বিপদ সংকেতের আওতায় আসবে।

সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জারি করা বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়। এর আগে সকালে এই দুই সমুদ্র বন্দরে সাত নম্বর সংকেত দেখাতে বলেছিল অধিদপ্তর।

সকালে পটুয়াখালীর পায়রা ও বাগেরহাটের মংলা সমুদ্র বন্দরকে পাঁচ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হলেও সন্ধ্যায় তা বাড়িয়ে আট নম্বর করা হয়। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহও এই মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ ̈বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ‘মোরা’ আরও সামান্য উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি তখন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৮৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব এবং পায়রা সমুদধবন্দর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

মোরার প্রভাব উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাতেও রাত থেকে পরবর্তী কয়েকদিন টানা বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

‘মোরা’র এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মোরার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনকে। সন্ধ্যার মধ্যে উপকূলের নিচু এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মীদের ‍ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

‘মোরা’ অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বর ̧না, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলা প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি বিবেচনা করে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, গবাদি পশুর নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থাকরণ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বেশকিছু সহায়তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সভাকক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্তি সচিব গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিশ্চিত করবেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনাররা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। উপজেলা সিপিপি কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদেরকে প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

গোলাম মোস্তফা আরো বলেন, ‘মহাবিপদের সময় উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল বা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল থেকে জনসাধারণকে উদ্ধার করার জন্য জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের স্থানীয়ভাবে নৌযান প্রস্তুত রাখতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রণালয় ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত সংকেত গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।’

সারাদেশে নৌযান চলাচল বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র সতর্কবার্তা থাকায় নদী পথে সবধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

সোমবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ -এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, আজ দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ -এর পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

উপকূলবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার নির্দেশ

ঘূর্ণিঝড় মোরা এগিয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে উপকূলীয় এলাকা বাসিন্দাদের সন্ধ্যার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

সোমবার সচিবালয়ে এক জরুরি সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা এই নির্দেশ দেয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করতে। সন্ধ্যার আগেই তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হবে।’

সচিব বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিশ্চিত করবেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনাররা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। উপজেলা সিপিপি কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদেরকে প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মহাবিপদের সময় উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল বা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল থেকে জনসাধারণকে উদ্ধার করার জন্য জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের স্থানীয়ভাবে নৌযান প্রস্তুত রাখতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রণালয় ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত সংকেত গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত অনুযায়ী সকল মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার চলাচলের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

The 1/16 smaller click wheel does make game control a little more difficult than before, as bigger fingers will slip off the they could try here wheel more often