টোকিও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী
ত্রিদেশীয় সফরের অংশ হিসেবে তিন দিন আগে জাপান পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপান সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন শেখ হাসিনা।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিও ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে বিমানটির ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এসময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটায় প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এদিন স্থানীয় সময় বিকালে টোকিওতে অবতরণ করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার আশা জাগিয়েছে। জেগেছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও। প্রদান-প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে এই সফর সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে জাপানের সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের বিনিয়োগসহ এই সফরে হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অংশীদারিত্বের নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। এই সফরের মধ্য দিয়ে জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত ও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী:
বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের পার্টনারশিপের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস এর আমন্ত্রতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.তে বিশ্বব্যাংকের সদরদপ্তরে আয়োজিতব্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বক্তব্য প্রদান করবেন। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়নের জয়যাত্রা ও গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। এর আগে আগামী ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তাগণ একান্ত বৈঠক করবেন। এর পরেই ইউএস চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজানে পি ক্লার্ক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নিসা বিসওয়ালের আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মূলবক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ‘ইকোনমিস্ট’ সংবাদপত্রকে সাক্ষাতকার দেবেন। এরপরে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক আয়োজিত কমিউনিটি ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা’র সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। আগামী ৪ মে প্রধামন্ত্রী ওয়াশিংটন ত্যাগ করবেন।
ত্রিদেশীয় শেষ সফর:
আগামী ৫ থেকে ৬ মে লন্ডনে ব্রিটেনের মহামতি রাজা চার্লস- ৩য় এবং কুইন কনসোর্ট ক্যামিলার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। এ রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রণের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আগামী ৫ ও ৬মে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন।
এ সফরে কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী সৌজন্য সাক্ষাত করতে পারেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের একটি হোটেলে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায়ও অংশ নেবেন এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। আগামী ৯মে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসবেন।

