দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ: তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা খাদ্য নিয়ে অনেকটা দূর এগিয়ে যেতে পেরেছি। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশ এতটা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল না, যতটা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তোফায়েল বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমাদের গড় আয়ু ছিল ৩৯ বছর। সেখান থেকে বেড়ে আমাদের এখন গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২-এ। ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমরা এখন অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। তবে সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ খাদ্যের জন্য কষ্ট পাচ্ছে। আমরা এখন খাদ্য আমদানি করছি। আমদানি পরিপূর্ণ হলেই দেশ আবার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ফিরে পাবে। সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশ বিদেশের অনেক গবেষক আমাদের কাছে সুপারিশ করেছেন। আগামী দিনে খাদ্য নিয়ে পরিকল্পনা করার জন্য এই সুপারিশমালা আমাদের যথেষ্ট কাজে লাগবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে খাবার টেবিলে আসার আগ পর্যন্ত আমরা খাদ্য নিরাপদ রাখতে চাই। আমরা বিদেশে গেলে দেখতে পাই, সে দেশের মানুষরা নিশ্চিন্তে স্ট্রিট ফুড খাচ্ছে। আমরাও আমাদের নিরাপদ স্ট্রিট ফুড নিশ্চিত করতে চাই।’
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের ১৮টি মন্ত্রণালয় ও ১৬৮টি সংস্থা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই দুই দিনের সম্মেলন পুরোটাই সফল হয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সামনে বড় ধরনের পরিকল্পনা করতে পারবো।’
সমাপনী অনুষ্ঠানে সকাল থেকে ‘এনশিওরিং ফুড সেফটি’ এ পার্ম টু ফর্ক অ্যাপ্রোচ‘ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ। প্যানেল আলোচনার মধ্য দিয়ে অধিবেশনটি শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ন্যাশনাল টিম লিডার এ কে এম নুরুল আফসার, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য সংস্থার পরিচালক রূপালী চৌধুরী, ফুড সেফটি অথরিটি অব ইন্ডিয়ার পরিচালক সুনীতি তোতেজা, ড্রাগ অ্যান্ড ফুড কন্ট্রোলের পরিচালক হালিম নববান প্রমুখ।
