বাউফলে নমুনার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রিতা, জনমনে আতঙ্ক
তোফাজ্জেল হোসেন,বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: সারাদেশে করোনা মহামারির সংক্রামন রোধে করোনা ভাইরাসের নমুনা দেয়ার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এরপরেই করোনা নমুনা সংগ্রহের জন্য পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি আইসোলেশন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। কিন্তু নমুনা সংগ্রহের শুরুর দিকে বাউফলে অনেকেই নমুনা দিতে অনাগ্রাহ দেখাতো। কারন মানুষের মাঝে একটা নেতিবাচক ধারণা ছিল। মানুষ মনে করত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি জানাজানি হলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন আক্রান্তের সংথ্যা বাড়তে থাকে তখন দেখা যায় চিকিৎসক,প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ, ব্যাংকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কেউ আক্রান্তের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। তারপর মানুষের মধ্য থেকে আস্তে আস্তে ভয়টা কাটতে শুরু হয়। আগে বাউফলে প্রতিদিন যেখানে ৪/৫ টির বেশী নমুনা সংগহ্র করা হত না। এখন দেখা যাচ্ছে ২০/২৫ জনের উপরেও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। যা ইতিবাচক দিক বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এখন নমুনার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নমুনা দেওয়া লোকজন আতঙ্কে ও উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
কারণ হিসেবে দেখা গেছে দীর্ঘসূত্রিতায় রিপোর্ট পেতে অনেকের স্বাস্থ্যগত অবস্থার অবনতি ঘটে। তাই যারা নমুনা দিয়ে আসেন তারা মনে করেন ২ /১ দিনের ভিতর রিপোর্টটি হাতে পেলে তারা মনে শান্তি পায়। রিপোর্ট পজিটিভ এলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিতে পারে। তাই তারা মনে করেন বর্তমানে নমুনা সংগ্রহের চাহিদা বাড়ায় দ্রুত রিপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা কার্যকরী করা প্রয়োজন। যাতে মানুষ আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এর ফলে মৃত্যু ঝুঁকি ও কমবে।
বাউফলে এ পর্যন্ত ৩’শ ৯২ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩’শ ১৩ জনের রিপোর্ট পওয়া গেছে। যার মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ জন। এদের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫ জন, আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭ জন। সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ১১ জন। অন্যরা সবাই হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে করোনা আক্রান্ত একজন ব্যংকার জানান, তিনি গত ১৬ জুন বাউফল হাসপাতালে নমুনা দেন। কিন্তু ৫ দিন পর রিপোর্ট পান। রিপোর্ট পেতে যদি ৫ দিন সময় লাগে তাহলে এ ৫ দিন তো আমি জানিনা আমি আক্রান্ত কি না । জানিনা বিধায় আমি তো বিভিন্ন কাজে বাইরে গিয়েছি। বিভিন্ন মানুষের সাথে কাজ করতে গিয়ে মনের অজান্তে হয়তো আমার দ্বারা অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে। তাই নমুনার রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া তিনি আরো বলেন,পটুয়াখালীর বাউফলে সর্বোচ্চ আক্রান্ত। তাই ঢাকায় রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হতো বিধায়। এখন বরিশাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পটুয়াখালী থেকে বিমাতা সূলভ আচরণ করা হচ্ছে বাউফলবাসীর সাথে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র ল্যবটেকনিসিয়ান মোঃ নাসীর উদ্দিন স্বজনপ্রীতিকরে এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহন করে বেছে বেছে নমুনাগুলো বরিশাল এবং ঢাকায় পাঠান। উপজেলা পর্যায়ের নমুনাগুলোর কোন গুরুত্ব দেন না তিনি। তিন/চারদিন পরে নমুনাগুলো বরিশাল এবং ঢাকায় পাঠানো হয়। যার ফলে ওই নমুনার কোন কার্যফল থাকে না। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)ডাঃ আখতারুজ্জামান বলেন, আগে নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা ছিল কম। এখন ওই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রিপোর্ট পেতে একটু দেরী হচ্ছে।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পটুয়াখালীতে পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় নমুনাগুলো বরিশাল এবং ঢাকায় পাঠাতে হয় । তাই রিপোর্ট পেতে দেরী হচ্ছে। সিনিয়র ল্যবটেকনিসিয়ান মোঃ নাসীর উদ্দিনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সত্য নয়। উনি একজন ভালো মানুষ। তারপরেও আমি বিষয়টি দেখব।
