leadnewsসারা দেশ

বাউফলে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

তোফাজ্জেল হোসেন, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিনের পদত্যাগের দাবিতে ক্লাশ বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছেন ওই বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কয়েকশত শিক্ষার্থী এ কর্মসূচী পালন করেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি বন্দর বাজার ঘুরে কালাইয় হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় গিয়ে পৌছালে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ছাদে অবৈধ ডিস এন্ট্রেনার কেবল ঝড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই কেবলে সংযোগ দেওয়ার সময় বিদ্যুতের ছেড়া তাড়ে জড়িয়ে বেল্লাল হোসেন নামে দশম শ্রেনির এক শিক্ষার্থী মারা যান। ওই ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেন শিক্ষার্থী ও নিহতের বাবা তাজ উদ্দিন। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক ফেদৌসি শিরিেিনর বিরুদ্ধে আর্থিক দূর্নীতি,অনৈতিক কর্মকান্ড,অতিরিক্ত ফি ধার্য, ছাত্র হত্যাসহ নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ তুলে ‘দফা এক দাবি এক, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রধান শিক্ষক জাবাব চাই’ বলে শ্লোগন দিতে থাকেন।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী সোহান বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষককের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করতে ছিলাম। বেলা ১টার দিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম স্যারের আশ্বাসে কর্মসুচী স্থগিত করি। আমাদের দাবি না মানলে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচী পালন করা হবে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন সম্পর্কে আমার কিছু জানা নাই। আজ প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন নাই। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে কী করা যায় তা শিক্ষার্থীদের জানানো হবে বলে আমি শিক্ষার্থীদেরকে জানিয়েছি। শনিবার স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কালাইয়া বন্দর দক্ষিণবঙ্গের একটি বৃহত্তম বাজার। সোমবার বাজারের দিন তাই ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সোমবার ও শুক্রবার এই দুই দিন আমরা সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করি।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিনকে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের পরিচয় জেনে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ন ফোন এসেছে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাকে ফোন করা হলে লাইন কেটে ফোনটি বন্ধ করে দেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো বশির গাজিকে ফোন করা হলে তিনি ২দিনের ছুটিতে আছেন বলে জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেন নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।