২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের একশ বছর পূর্তিতে ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভার উদ্বোধনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন জাতির জনক। তখন এই অঞ্চল ছিল ব্রিটিশ শাসনাধীনে। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান-দুই দেশের জন্মের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে ব্রিটিশ রাজের। আর পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ২০২০ সালের পাশাপাশি ২০২১ সালও আওয়ামী লীগের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, ওই বছর স্বাধীন বাংলাদেশেরও ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। আর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০২০ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
এর মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী জানুয়ারিতে হতে যাচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচন। ভোটে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারলেই কেবল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আর বাংলাদেশের জন্মের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে পারবে তারা পরিকল্পনামতো।
শেখ হাসিনা বলেন, “২০২০-২১ সাল ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালিত হবে। বছরব্যাপী কর্মসূচি নিয়ে উদযাপিত হবে জন্মশতবার্ষিকী। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বিভাগ জেলা ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।”
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এরপর অবৈধ ক্ষমতা দখল। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে দেশের এগিয়ে যাওয়া। উন্নয়ন স্তব্ধ। তবে সবকিছু পেছনে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি নিয়ে এখন উন্নতির পথে কাজ চলছে।’
সরকারের সমালোচকদেরকে এক হাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকের চোখে সরকারের উন্নয়ন ভালো লাগে না। তারা গরিব থাকবে তা দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা আনবে। আবার কেউ দরিদ্রদের লোন দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়বে।’
‘কিন্তু দেশের উন্নয়নে তাদের সুযোগ সীমিত হয়ে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করছে মানুষ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’
‘আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা সম্মান পেয়েছি। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে সবাই এই স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।’
‘শোষিত মানুষকে শোষণ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন।’
‘দেশের একটা মানুষ ঘরহারা থাকবে না, একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। ফুটপাথে পড়ে থাকবে না। ২০২০ সালের মধ্যে আমরা ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারব।’
