leadnewsশিক্ষা

শুক্রবারও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাসহ সড়কে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা

ফয়সাল মোহাম্মদ:সোমবার থেকে টানা ছাত্র বিক্ষোভে জমে যাওয়া কাজগুলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন করবেন ভেবে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর গলিতেই বাধা। লাইসেন্স চাই।

শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোড, গজনবী রোড, তাজমহল রোড নারায়ণগঞ্জের চাষাড়াসহ বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দেখা গেছে। এ সময় হেনস্থা হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মোটরসাইকেলে করে আসা বয়স্ক মানুষ বলছিলেন, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাসা এখানেই। আমি বাজার করতে বের হয়েছি। এ অবস্থায় কাগজপত্র আর লাইসেন্স নিয়ে এলাকার মধ্যে কে বের হয়? বাজার তো এখানেই। তাদের আচরণ ছাত্রসুলভ ছিল না।’

‘আমারও সন্তান আছে। তারাও কলেজের ছাত্র। বাবার বয়সী লোকের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তা তারা জানে না।’

শহীদ আসাদ এভিনিউয়ে আটকানো হয়েছিল এই মোটরসাইকেল আরোহীকে। সাথে কাগজপত্র না থাকায় আন্দোলনকারীদের সাথে বাক বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। অবশ্য বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর তাকে যেতে দেয় আন্দোলনকারীরা।

গত রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই জন কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাঠে নামে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর বৃহস্পতিবার থেকে তাদের সঙ্গে ‘বড়দেরও’ দেখা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে সরকার শিক্ষার্থীদের অন্তর্ঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। জানিয়েছে, এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। ছাত্রদল এবং শিবিরের পরিকল্পনার বিষয়ে কথোপকথনও ধরা পড়েছে মোবাইল ফোনে।

ছাত্ররা যে নয় দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে সেগুলো মেনে নেয়ার ঘোষণা এসেছে বুধবারই। আর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাবা এবং মা ছাত্রদেরকে রাস্তা থেকে উঠে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

সেদিন বিকালে ছাত্ররা উঠে গেলেন গভীর রাতেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ছাত্র নামধারীদের রাস্তায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। কিন্তু পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এর মধ্যে শুক্রবার সকালে শাহবাগ এলাকায় গাড়ি পরীক্ষার সময় বাসদ নেতা বলে পরিচয় দেয়া আমিনুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাড়া-মহল্লায় যারা চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করছিল তাদের গায়ে কোনো স্কুলের ইউনিফর্ম ছিল না। ফলে তারা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র তা বুঝা যাচ্ছিল না। আর এসব বিষয়ে কথা বলতেও রাজি নয় তারা।

তরুণরা বলেন, তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দাবি মানার আগ পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, পরিবহণের কাগজপত্র এবং মোটরসাইকেল আরোহীর হেলমেট দেখছেন।

এর আগেও রাত ১১টায় তাজমহল রোডে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে একদল মানুষ।